ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বিভিন্ন পণ্য তৈরির ৬ মাসের ট্রেনিং শেষে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শতাধিক বন্দিকে সনদ প্রদান করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারাগারের ভেতরে উৎপাদন শাখা ভবনে ছোটখাটো একটি পোশাক কারখানা আছে। সেখানে ৩০০ বন্দি কাজ করেন। সেখানে তৈরি করা পোশাকগুলো পাঠানো হয় দেশের বাইরে। গতকাল সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কারাগারের ভেতরে বন্দিদের বিভিন্ন পণ্য তৈরির ট্রেনিং দেয়া হয়। যেমন গার্মেন্টস শিল্পের পোশাক বানানোর, বেনারসি ও জামদানি শাড়ি, জুতা তৈরির প্রশিক্ষণ, শো-পিস বানানোর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও মেরামতসহ বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বন্দিদের। এছাড়া টেলিভিশন রেডিও, রেফ্রিজারেটর, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশন মেরামতসহ বিভিন্ন প্রকার ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ও মোবাইল মেরামতের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পাশাপাশি বন্দিদের নিয়ে মাদকবিরোধী মোটিভেশন, ধর্মীয় মোটিভেশন, মেডিটেশন ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা আছে। যাতে কারাগার থেকে বান্দিরা মুক্তি পেয়ে হতাশায় যেন না ভোগে। তিনি আরও বলেন, এ ট্রেনিং অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা নিজেরাই যেন কাজ করে খেতে পারেন। পাশাপাশি সেসব বন্দিরা মুক্তির পর আবারও তারা যেন অপরাধের দিকে ধাবিত না হয়। এমন অনেক বন্দি আছে কারাগারে থেকে নানা কাজের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাইরে বের হয়ে তারা নিজেরাই ছোটখাটো কারখানা দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। আগের অপরাধ তারা ভুলে গিয়ে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, কারাগারের ভেতরে উৎপাদন শাখা ভবনে সব মেশিনপত্র নিয়ে ছোটখাটো একটি গার্মেন্টস আছে। সেখানে ৩০০ বন্দি কাজ করে থাকেন। বাইরের বায়ারের কাছ থেকে যারা পণ্য তৈরির অর্ডার নেয় তাদের কাছ থেকে আমরা অর্ডার নিয়ে সেগুলো তৈরি করে দেই। সেসব সাব-কন্ট্রাক্টেরের মাধ্যমে কারাগারের পোশাক শিল্পের পণ্যগুলো দেশের বাইরে যায়। এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গতকাল বন্দিদের মাঝে প্রাক-প্রাথমিক, ১ম, ২য়, ৩য় শ্রেণি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মোট ১২২ জন বন্দি। তাদের মধ্যে কৃতকার্য হন মোট ১০৭ জন। পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে কারাগার হস্তান্তর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ শেষে মোট ১৬৪২ জন বন্দিকে সনদ প্রদান করা হয়। গতকাল বন্দিদের মাঝে সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেল সুপারের পাশাপাশি ছিলেন জেলার নাশির আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কারাগারে গার্মেন্টস শিল্পের কাজ করেন ৩০০ বন্দি পণ্য যায় বিদেশে
- আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৪ ১২:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৪ ১২:৪৭:৪৪ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ